1. admin@assistbangladesh.org : admin :
  • 01713-077667
  • assistbangladesh@gmail.com

সাদাসিধে ও মধ্যমপন্থা জীবনযাপন

সাদাসিধে, অনাড়ম্বর ও মধ্যমপন্থা জীবনই ইসলামের অন্বেষা।
জাঁকজমক, লৌকিকতার ঝলক কিংবা বাড়তি সৌখিনতা হলো পার্থিব জীবনের প্রবঞ্চনা ও ধোঁকা।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন,

(اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ ۖ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا ۖ وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٌ ۚ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ)
‘তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়, যেমন এক বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়।
(সুরা আল-হাদীদ : ২০)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার নগন্যতার দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন,
“‏ مَا مَثَلُ الدُّنْيَا فِي الآخِرَةِ إِلاَّ مَثَلُ مَا يَجْعَلُ أَحَدُكُمْ إِصْبَعَهُ فِي الْيَمِّ فَلْيَنْظُرْ بِمَ يَرْجِعُ ‏”‏ ‏.‏
‘আখেরাতের তুলনায় দুনিয়া হলো এতটুকু, যেমন তোমাদের কেউ তার একটি আঙ্গুল সমুদ্রের পানিতে ডুবিয়ে তা তুলে আনলো। সে লক্ষ্য করুক তার আঙ্গুল কতটুকু পানি নিয়ে ফিরেছে।’ (ইবনে মাজাহ: ৪১০৮)
অপর হাদিসে এসেছে,
” مَوْضِعُ سَوْطٍ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، وَلَغَدْوَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ رَوْحَةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا “.
‘জান্নাতের মাঝে এক চাবুক পরিমিত জায়গা দুনিয়া এবং তার মাঝে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। আর আল্লাহর পথে সকালের এক মুহূর্ত কিংবা বিকালের এক মুহূর্ত দুনিয়া ও তার মাঝে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।'(বুখারি : ৬৪১৫)

হজরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“‏ اللَّهُمَّ لاَ عَيْشَ إِلاَّ عَيْشُ الآخِرَة
‘হে আল্লাহ্! আখিরাতের জীবনই সত্যিকারের জীবন।’ (বুখারি : ৬৪১৩)

পার্থিব এই ক্ষণস্থায়ী জীবন হলো পরকালের শষ্যক্ষেত্র স্বরূপ। এখানকার কর্মফলই মানুষ আখেরাতে ভোগ করবে ৷ এজন্য এখানে তার অবস্থাটা সীমিত সময়ের জন্য স্বল্প পরিসরে। পরজগতের ভাবনায় ইহজাগতিক যাবতীয় কর্মকাণ্ড সূচিবদ্ধ একটি নিয়মের অধীনে পরিচালিত হবে। জাগতিক প্রতিষ্ঠা ও বৈষয়িক চিন্তা থাকবে গৌণ হিসেবে। একজন পথিক যেমন তার আরামস্থলকে স্থায়ী কোনো ঠিকানা মনে করে না, এখানে তার ভোগ প্রাচুর্যের তেমন কোন অন্বেষা থাকে না, তেমনি দুনিয়ার জীবনটাও মানুষের জন্য মুহূর্তের অবস্থানস্থল, পথিকের বিশ্রামস্থলের মতো। ক্ষণিকের আবাসে আড়ম্বর ও লৌকিকতা প্রদর্শন কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয়। হজরত আবদুল্লাহ্ ইবনু উমর (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমার দু’ কাঁধ ধরে বললেন,
” كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ “.
“তুমি দুনিয়াতে এমনভাবে থাক যেন তুমি একজন প্রবাসী অথবা পথচারী।”
হজরত ইবনু উমর (রা.) বলতেন,
إِذَا أَمْسَيْتَ فَلَا تَنْتَظِرِ الصَّبَاحَ، وَإِذَا أَصْبَحْتَ فَلَا تَنْتَظِرِ الْمَسَاءَ، وَخُذْ مِنْ صِحَّتِكَ لِمَرَضِكَ، وَمِنْ حَيَاتِكَ لِمَوْتِكَ.
‘তুমি সন্ধ্যায় উপনীত হলে সকালের আর অপেক্ষা করো না এবং সকালে উপনীত হলে সন্ধ্যার আর অপেক্ষা করো না। তোমার সুস্থতার সময় তোমার পীড়িত অবস্থার জন্য প্রস্তুতি নাও। আর তোমার জীবিত অবস্থায় তোমার মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নাও।’ (বুখারি : ৬৪১৬)
তাই দুনিয়ার তুলনায় আখিরাতকে সব সময় প্রাধান্য দিতে হবে। অর্জিত ধন-সম্পদ আমাদেরকে যেন আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। হ্যাঁ, আখিরাতের চিন্তা মাথায় রেখে দুনিয়াতে বেঁচে থাকার জন্য হালাল উপায়ে রিযিক আহরণে অবশ্যই সচেষ্ট হতে হবে। কিন্তু ক্ষণস্থায়ী জীবনের বিলাসীতায় যেন চিরস্থায়ী জীবন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে যায় ৷

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাসপরায়ণ ছিলেন না। তাঁর জীবনধারায় নজর বুলালে এটা ধ্রুব সত্য হিসেবে প্রতিভাত হয়ে উঠে। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন:
” إِنَّمَا كَانَ فِرَاشُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , الَّذِي يَنَامُ عَلَيْهِ مِنْ أَدَمٍ , حَشْوُهُ لِيفٌ ” .
‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিছানায় নিদ্রা যেতেন, তা ছিল চামড়ার। এর ভেতরে খেজুর গাছের আঁশ ভরা থাকত।’ (শামায়েলে তিরমিযি : ২৫৩)

একদিনের ঘটনা, হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মহনবীর কামরায় প্রবেশ করলেন ৷ এ সময় তিনি একটা চাটাইয়ের উপর শুয়ে ছিলেন। চাটাই এবং রসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝে আর কিছুই ছিল না। তাঁর মাথার নিচে ছিল খেজুরের ছালভর্তি চামড়ার একটি বালিশ এবং পায়ের কাছে ছিল সল্ম বৃক্ষের পাতার একটি স্তূপ ও মাথার উপর লটকানো ছিল চামড়ার একটি মশক। হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক পার্শ্বে চাটাইয়ের দাগ দেখে কেঁদে ফেললে নবীজি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! কিসরা ও কায়সার পার্থিব ভোগ-বিলাসের মধ্যে ডুবে আছে, অথচ আপনি আল্লাহর রাসুল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ” أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ لَهُمُ الدُّنْيَا، وَلَنَا الْآخِرَةُ ؟
“তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তারা দুনিয়া লাভ করুক, আর আমরা আখিরাত লাভ করি?’
( বুখারি : ৪৯১৩, মুসলিম: ১৪৭৯)
অন্যত্র এসেছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
“‏ مَا أَنَا وَالدُّنْيَا إِنَّمَا أَنَا وَالدُّنْيَا كَرَاكِبٍ اسْتَظَلَّ تَحْتَ شَجَرَةٍ ثُمَّ رَاحَ وَتَرَكَهَا ‏”‏ ‏.‏
‘দুনিয়ার সাথে আমার সম্পর্ক কী? আমি দুনিয়াতে এমন এক মুসাফির বৈ তো কিছু নই, যে একটি গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিলো, অতঃপর তা ছেড়ে করে গন্তব্যের পানে চলে গেলো।’ (ইবনে মাজাহ: ৪১০৯)

আল্লাহর প্রিয় হাবীব ও উভয় জগতের বাদশা হওয়া সত্ত্বেও নবীজির জীবনাচরণ ও জীবনধারা ছিল অতি সাধারণ। ঐশ্বর্যমণ্ডিত হওয়ার সমূহ ব্যবস্থা থাকার পরও সাদাসিধে ও আড়ম্বরহীন জীবনকে নিজের জন্য বেছে নিয়েছিলেন তিনি। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
: إِنْ كُنَّا آلَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَنَمْكُثُ شَهْرًا مَا نُوقِدُ فِيهِ بِنَارٍ، مَا هُوَ إِلَّا التَّمْرُ وَالْمَاءُ
‘আমাদের নবীর পরিবারে কখনো এমন হতো যে, এক মাসের অধিক সময় পর্যন্ত আগুন জ্বালানো হতো না; শুধু পানি ও খেজুর খেয়ে কাটাতাম।’ (ইবনে মাজাহ : ৪১৪৪)
অপর হাদীসে হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘জিবদ্দশায় রাসুলুল্লাহ্ (সা.) একই দিনে দুবার রুটি ও জায়তুন দ্বারা পরিতৃপ্ত হননি। (মুসলিম: ২৯৭৪)
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَبِيتُ اللَّيَالِي الْمُتَتَابِعَةَ طَاوِيًا، وَأَهْلُهُ لَا يَجِدُونَ عَشَاءً، وَكَانَ أَكْثَرُ خُبْزِهِمْ خُبْزَ الشَّعِيرِ.
‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবারবর্গ একাধারে কয়েক রাত অনাহারে এমনভাবে কাটাতেন যে, তারা আহার্য বস্তুর কোন কিছুই পেতেন না। আর অধিকাংশ সময় তাদের খাবার হতো যবের রুটি ৷ (তিরমিজি: ২৩২৬)

হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন,
” أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , لَمْ يَجْتَمِعْ عِنْدَهُ غَدَاءٌ وَلا عَشَاءٌ مِنْ خُبْزٍ وَلَحْمٍ , إِلا عَلَى ضَفَفٍ ”

‘দিনের খাবারই হোক কিংবা রাতের খাবার, কোন সময়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে রুটি-গোশত একত্রিত হতো না। তবে মেহমানদারির জন্য দস্তরখানায় তা থাকত। (শামায়েলে তিরমিজি: ২৮৯)

নবীর আদর্শের মূর্ত প্রতীক সাহাবায়ে কেরামও ছিলেন ইসলামের এ প্রেরণা বাস্তবায়নের উত্তম নমুনা। তাঁদের জীবনধারাও ছিল নবীজির আদলে অনাড়ম্বর ও সাবলীল।
হজরত আবু বকর (রা.) এর পর খলিফা নির্বাচিত হলেন উমর রা.। তিনি তখন অর্ধ জাহানের বাদশা। বায়তুল মাল থেকে তিনি যে ভাতা নিতেন তাতে সংসার চলতো না। তাঁর এ সমস্যার সমাধান কল্পে শীর্ষস্থানীয় সাহাবায়ে কেরাম পরামর্শ করে ভাতা বাড়ানোর চিন্তা করলেন। কিন্তু এ প্রস্তাব তারা সরাসরি খলিফার কাছে উপস্থাপন করার সাহস পেলেন না। তাই খলিফার মেয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর সহধর্মিনী হাফসা (রা.) এর কাছে শরণাপন্ন হলেন ৷ সুযোগ বুঝে হাফসা (রা.) এ প্রস্তাব ওমর (রা.) এর দরবারে পেশ করলেন ৷ প্রস্তাব শুনে খলিফা মনঃক্ষুণ্ন হলেন। বিষণ্ণ কণ্ঠে প্রশ্ন করলেন, বলো তো হাফসা তোমার ঘরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সবচেয়ে ভালো পোশাক কেমন ছিল? উত্তরে হাফসা (রা.) বললেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যবহারের জন্য আমার ঘরে মাত্র দুটি হলুদ রঙের কাপড় ছিল। জুমার দিনে আর বিদেশি কোন মেহমান সাক্ষাত করতে এলে তিনি কাপড়গুলো পরিধান করে বের হতেন। ওমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, বলতো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেযে ভালো খাবার কি খেতেন? হাফসা (রা.) বললেন, আমরা যবের রুটি খেতাম ৷ একদিন ঘির পাত্রে যে তলানিটুকু ছিল তা গরম রুটিতে লাগিয়ে লাগিয়ে আমরা খেয়েছিলাম। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও তা খেয়েছিলেন। উপস্থিত অন্যদেরকেও তা খেতে দিয়েছিলেন। এবার ওমর (রা.) প্রশ্ন করলেন,বল তো তোমার ঘরে রাসুলের সবচেয়ে ভালো বিছানাটা কেমন ছিল? হাফসা (রা.) উত্তরে বললেন, বিছানার জন্য একটি মোটা কাপড় ছিল। গরমের সময় কাপড়টি চার ভাঁজ করে বিছিয়ে দিতাম। শীতকালে অর্ধেকটুকু বিছিয়ে নিতাম আর বাকি অর্ধেক দিয়ে আমরা শরীর ঢাকতাম। এসব প্রশ্নোত্তরের পর খলিফা কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। তার চেহারায় প্রত্যয় ও আত্মবিশ্বাসের ছাপ ফুটে উঠল। তারপর দৃঢ়ভাবে বললেন, আমাকে আমার ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করে কোনো লাভ নেই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর (রা.) যেভাবে সাদাসিধে জীবনাতিপাত করে গেছেন আমিও সে আদর্শে অবিচল থাকব। এটাই ছিল সাহাবায়ে কেরামের সাদাসিধে ও অনাড়ম্বর জীবনের বাস্তব চিত্র।

খেলাফতে রাশেদার পরবর্তী যুগের মুসলিম জাহানে খলিফা হজরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের চাকচিক্যহীন সাদাসিধে জীবনের অসংখ্য কাহিনী সকলেরই জানা। খলিফা নির্বাচিত হবার পর তাঁর সামনে ঘোড়াপাল থেকে শ্রেষ্ঠ ঘোড়াটি উপস্থিত করা হলো। তিনি হেসে বললেন, আমার এমন সুসজ্জিত ঘোড়ার প্রয়োজন নেই, পুরোনো খচ্চরটিতেই আমি চড়ে বেড়াবো। ওটি ফেরত নিয়ে যাও তোমরা। রাজকীয় ঘোড়াদের খাবার -দাবার পরিচর্যা ও সহিসদের বেতন -ভাতা ইত্যাদির ব্যয়বহুল খরচ দেখে খলিফা ঘোষণা করে দিলেন, এসব অপচয়ের কোন প্রয়োজন নেই। সব ঘোড়া বাজারে বিক্রি করে সে টাকা জনগণের কল্যাণে ব্যয় করো।

কার্পণ্যও নয় ও অপব্যয়ও নয়। বরং সুচিন্তিতভাবে যেখানে যা প্রয়োজন তা ব্যয় করাই ইসলামের নির্দেশ। এটার নামই মধ্যম পন্থা ৷ এভাবে চললে উপার্জনে বরকত হয় ও অর্থকষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ما عال من اقتصد’
‘যে ব্যক্তি পরিমিত ব্যয় করে সে নিঃস্ব হয় না।’ (মুসনাদে আহমদ : ৪২৬৯ )
রাসুল (সা.) ব্যাপকভাবে খাদ্য ও পোশাকসহ যাবতীয় কর্মে মিতব্যয়ী হতে বলেছেন এবং অপব্যয় ও অপব্যবহার থেকে বারণ করেছেন।
মূলত ধনসম্পদের অপরিমিত ব্যবহার ও অপব্যয়ের ছিদ্রপথেই সংসারে আসে অভাব-অনটন। সমাজে আসে অশান্তি। অশান্তি আর অনটন হতে রক্ষা পেতে হলে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে হবে । কৃপণতা এবং অপব্যয় কোনটাই কাম্য নয় । এ দুয়ের মধ্যবর্তী পথই হচ্ছে উত্তম পথ। তাইতো রাসুল (সা.) প্রর্থনায় বলেছেন :
‘أَسْأَلُكَ الْقَصْدَ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى’
‘হে আল্লাহ ! দারিদ্রতা ও ধনাট্যতার ব্যাপারে মধ্যমপন্থার প্রার্থনা করছি’ ৷(নাসায়ী: ১৩০৫)
জীবনযাপনে বিলাসিতা ও অপচয় পরিহার করে ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যপন্থা অবলম্বন করার নির্দেশনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা কতো চমৎকার এরশাদ করেছেন—
ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺠْﻌَﻞْ ﻳَﺪَﻙَ ﻣَﻐْﻠُﻮﻟَﺔً ﺇِﻟَﻰ ﻋُﻨُﻘِﻚَ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺒْﺴُﻄْﻬَﺎ ﻛُﻞَّ ﺍﻟْﺒَﺴْﻂِ ﻓَﺘَﻘْﻌُﺪَ ﻣَﻠُﻮﻣًﺎ ﻣَﺤْﺴُﻮﺭًﺍ
‘(কৃপণতাবশে) নিজের হাত ঘাড়ের সাথে বেঁধে রেখ না এবং (অপব্যয়ী হয়ে) তা সম্পূর্ণ খুলেও রেখ না। যদ্দরুণ তোমাকে নিন্দাযোগ্য ও নিঃস্ব হয়ে বসে পড়তে হবে।’
(সুরা বনী ইসরাঈল : ২৯)

 

লেখক:
মুফতি গোলাম রাজ্জাক কাসেমি
বিভাগীয় প্রধান আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, মদীনাতুল উলুম মাহমুদিয়া, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ ৷

Please follow and like us: