1. admin@assistbangladesh.org : admin :
  • 01713-077667
  • assistbangladesh@gmail.com

বাজেট এলেই একটা আতঙ্ক আসে

মীর আমির হোসেন আমু:
একজন নাগরিক হিসেবে এবারের বাজেটের সবচেয়ে খারাপ দিক আমার কাছে মনে হয়েছে মুঠোফোন সেবার ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাবটি। এর প্রভাব সমাজের উচ্চবিত্তের ওপর যেমন পড়বে, তেমনি একজন রিকশাচালক ও দিনমজুরেও এ বাড়তি কর গুনতে হবে। সবাই যে মুঠোফোনে অপ্রয়োজনে কথা বলেন, তা নয়। জরুরি প্রয়োজনের কথাই বেশি বলা হয়। তারপরও সরকার যদি কথা বলা বা মুঠোফোনের অন্যান্য সেবার ওপর কর বাড়াতে চায়, তার জন্য নির্দিষ্ট একটি সীমা বেঁধে দিতে পারতেন। সরকার ঠিক করল, কেউ যদি দিনে সব মিলিয়ে এক ঘণ্টার বেশি ফোনে কথা বলেন, তাহলে বাড়তি কর দিতে হবে। সেটি হলে গরিব মানুষের ওপর এ করের বোঝা চাপত না।

এবারের বাজেটের আরেকটি খারাপ দিক মনে হয়েছে ব্যাংকে ১০ লাখ টাকার বেশি জমা থাকলে বাড়তি করারোপের বিষয়টি। এতে ব্যাংকে আমানত কমে যেতে পারে। এমনিতে সুদের হার কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো আমানত-সংকটে ভুগছে। তার মধ্যে আমানত আরও কমলে তার নেতিবাচক প্রভাব পুরো অর্থনীতির ওপর পড়বে। এ ছাড়া বাংলাদেশে অনেক অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত ব্যক্তির পরিবার আছে, যারা ব্যাংকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রেখে তার বিপরীতে প্রাপ্ত সুদ দিয়ে সংসার চালায়। তাদের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

এর বাইরে করোনার কারণে আমার প্রত্যাশা ছিল সরকার স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ নজর দেবে এবার। কিন্তু বাজেটে আমি তার প্রতিফলন খুব একটা দেখিনি। আমি মনে করি, স্বাস্থ্য খাত ঢেলে সাজানোর দাবি এখন দেশের প্রত্যেক নাগরিকের। কিন্তু তার জন্য সরকারের দিক থেকে এখন পর্যন্ত আমরা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখছি না। স্বাস্থ্য খাতের বাজেট সংকটের চেয়ে দুর্নীতির সমস্যা প্রকট। তাই শুধু টাকা দিয়ে সংকট দূর করা যাবে না। সংকট কাটাতে হলে টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে আমরা দেখব হাজার টাকার পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম) কয়েক গুণ বেশি দামেই কেনা হবে। এ করোনার অভিজ্ঞতা থেকে সরকারের কাছে আমার একটাই চাওয়া, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মানুষের মৌলিক চাহিদার খাতগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকুক।

এবারের বাজেটে সরকার দেশি শিল্পের সুরক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সেটিকে আমি সাধুবাদ জানাই।

কৃষকের সুরক্ষায় বাজেটে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। আমার মনে হয়, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই তাঁদের জন্য বড় সুরক্ষা। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। আমি মনে করি, মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট থেকে কৃষককে বের করে আনতে হবে। কৃষিপণ্যের বিকল্প ও শক্তিশালী বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার, যেখানে পণ্যের বিক্রেতা কৃষক ও ক্রেতার মধ্যে সরাসরি সংযোগ গড়ে উঠবে।

এ ছাড়া আমার চারপাশের মানুষের মধ্যে চাকরি নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠা দেখতে পাচ্ছি। লাভ–লোকসান ব্যবসায় থাকবে। কয়েক মাসের লোকসানের কারণে সবাই চাকরিচ্যুতির পথ বেছে নেবে, এটি কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

বাজেটের লক্ষ্য যদি জনগণের উন্নয়ন হয়ে থাকে, তাহলে বলব ২০২০–২১–এর প্রস্তাবিত বাজেটে আরও কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ থাকা দরকার ছিল, যেগুলো এই কোভিড-১৯–এর সময় মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজে আসতো।

Please follow and like us: