হাইজিন ও স্যানিটেশন

বাংলাদেশের প্রতিটি বাসিন্দার ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার। কিন্তু বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান দিতে পারা সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে প্রতি ২,৮৯৪ জনের জন্য রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক আছেন মাত্র একজন৷ আর সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে ১,৬৯৮ জনের জন্য আছে একটি বেড৷ বাংলাদেশে মোট হাসপাতালের সংখ্যা সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে ৩,৫৭৫টি৷ এরমধ্যে সরকারি হাসলপাতাল মাত্র ৫৯২টি৷ সরকারি হাসপাতালের মধ্যে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে হাসপাতাল আছে ৪৬৭টি আর ১২৫টি হাসপাতাল বিশেষায়িত এবং জেলা পর্যায়ে৷ এতে স্পষ্ট যে, সরকারি স্বাস্থ্য সেবার সীমাবদ্ধতা রয়েছে অবকাঠামোগত কারণে। এক্ষেত্রে দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্বও কম নয়।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে রয়েছে সংক্রামক এবং অ-সংক্রামক রোগ, অপুষ্টি, পরিবেশগত স্যানিটেশন সমস্যা এবং অন্যান্য। জনসংখ্যার বিশাল সংখ্যার কারণে বাংলাদেশ দ্বিগুণ রোগের মুখোমুখি হয়। যেমন অসংক্রামক রোগ– ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, দীর্শ্বাঘমেয়াদী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যান্সার এবং সংক্রামক রোগ– যক্ষ্মা, এইচআইভি, ধনুষ্টংকার, ম্যালেরিয়া, হাম, রুবেলা, কুষ্ঠব্যাধি ইত্যাদি।

আমাদের ভাবনার বিষয় হচ্ছে- স্যানিটেশন ও হাইজিন সমস্যা এবং এর থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে।

দেশে পরিবেশগত স্যানিটেশন সমস্যা বহুমুখী। তাই এটি মোকাবেলা করাও সবচেয়ে কঠিন। পরিবেশগত স্যানিটেশন এর যমজ সমস্যা হচ্ছে দেশের অনেক অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জলের অভাব এবং মল নিষ্পত্তি এর প্রতিষেধক পদ্ধতি। শহরে এটির স্বরূপ ভিন্ন। কিন্তু প্রভাবক প্রায় একই।

পরিবেশগত স্যানিটেশন সমস্যার কিছু কারণ হচ্ছে- গ্রামীণ বাড়ি-ঘরে যথোপযুক্ত বায়ুচলাচল, আলো ইত্যাদির জন্য ব্যবস্থা থাকে না। জনসাধারণের খাদ্য এবং বাজারের স্থানগুলোর দুর্বল স্যানিটেশন। অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন, অস্বীকার এবং পশু বর্জ্য নিষ্পত্তি। পর্যাপ্ত এমসিএইচ যত্ন সেবার অনুপস্থিতি গ্রামাঞ্চলে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা শিক্ষার অভাব এবং জনস্বাস্থ্যের কর্মীদের অভাব, অপর্যাপ্ত যোগাযোগ ও পরিবহন সমস্যা।

উপরের এ সকল সমস্যা শহরাঞ্চলের বস্তি, অধিকাংশ পোশাক কারখানা এবং কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে  স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমান হচ্ছে মোট অর্থনৈতিক অভিঘাতের ৮৪ শতাংশ বা সমমূল্যায়নে বাংলাদেশের জিডিপির ৫.৩ ভাগ। বাংলাদেশে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সেক্টর এর জন্য প্রণীত হাইজিন প্রসারে জাতীয় কৌশলপত্র (এনএইচপিএস) বাংলাদেশ পানি ও স্যানিটেশন সেক্টরের জন্য প্রণীত সেক্টর উন্নয়ন (এসডিপি২০১১-১৫) এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কৌশলপত্রের প্রস্তাবনা প্রস্তাবনা অনুসারে হাইজিন প্রসার বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছে- ব্যক্তিগত হাইজিন, খাদ্য হাইজিন ও রজঃস্রাব সংক্রান্ত হাইজিনের প্রতি দৃষ্টিপাত।

দেশের হাইজিন ও স্যানিটেশন সমস্যা সমাধানে ‘এসিস্ট বাংলাদেশ’  ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। এছাড়া পোশাক কারখানাসহ নিন্ম আয়ের পরিবারের মেয়ে সদস্যদের মধ্যে স্বল্পমূল্যে নেপকিন সরবরাহ করে ‘এসিস্ট বাংলাদেশ’ । ‍

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *