আমাদের সম্পর্কে

এসিস্ট বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধিত সম্পূর্ণ অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান। কার্যক্রমের সুবিধার্তে প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত হলেও এটি মূলত একটি স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংগঠন। যার নিবন্ধন নং-। সমমনা সংবাদকর্মী এবং গবেষণাকর্মীদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে এটি ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

পাশাপাশি এটি একটি সৃজনশীল গবেষণা। প্রধানত তিনটি খাত নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি সংগঠনটি বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক গবেষণাকার্য পরিচালনা করে থাকে।

‘এসিস্ট বাংলাদেশ’ নামটি ব্যাখ্যা করলে দাঁড়ায়- ‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সহায়তা করা’। এই লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় সম্পূর্ণই এর সদস্যদের সংগ্রহ এবং দানকৃত অর্থের দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি একটি বহুবিধ সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত প্রতিষ্ঠান যার নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী কর্মী রয়েছে। যাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা, তথ্যকেন্দ্র, গ্রন্থাগার, প্রকাশনা প্রভৃতি কার্য সমাধা ও পরিচালনা করে থাকে। বিভিন্ন পর্যায়ের উপদেষ্টা, কর্মকর্তা, সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবী কর্মী মিলে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কার্যনির্বাহী সদস্যসংখ্যা ৮০।

নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট অনুসারে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি চারটি মূল বিষয় নিয়ে কাজ করছে।

পোশাক খাতের বিভিন্ন কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নারীশ্রমিক ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের হাইজিন ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করছে এসিস্ট বাংলাদেশ। এটি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান কার্যক্রম। সম্পূর্ণ অলাভজনক ভাবে এই কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়ে আসছে। কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সুবিধাভোগীদের মধ্যে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত নেপকিন বিতরণ করা হচ্ছে।

এখনো দেশের অধিকাংশ স্থানে বয়স্ক নাগরিকরা, যাদের আমরা সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে আখ্যায়িত করি, তারা নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে সিংহভাগ ক্ষেত্রে পারিবারিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন তারা। সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণও রয়েছে। এসিস্ট বাংলাদেশ এ ধরনের সিনিয়র সিটিজেনদের সহায়তা ও পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করে।

নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের কাছে এক আতঙ্কের নাম ভাঙন৷ অনেকের জীবন দুর্বিষহ হয়েছে এই ভাঙনে৷ কেউ হারিয়েছেন পরিবার, কেউ জীবিকা৷ এর মধ্যে বেশির ভাগ সহায় সম্বল হারানো মানুষগুলো রাজধানীতে পাড়ি জমায়। রাজধানীতে ভাসমান জীবন-যাপন করা এসব পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ খুব সীমিত। ‘এসিস্ট বাংলাদেশ’ কর্তৃক পরিচালিত ‘মানবিক স্কুল’ তাদের শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। ‘মানবিক স্কুল’ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বদিচ্ছায় পরিচালিত একটি কর্মমুখী শিক্ষার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান।

এর বাইরে, প্রকাশনা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আঞ্চলিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও দেশের বিভিন্ন স্তরের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের জীবনী সংগ্রহ এবং লিপিবদ্ধ করে এসিস্ট বাংলাদেশ।

উদ্দেশ্য:
প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য হলো- নারী ও বয়স্কদের সহায়তা করা এবং সমাজ ও সমাজের জনসাধারণের সেবা করা। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। যার লক্ষ হলো সংগঠনকর্তৃক সঞ্চয়কৃত সকল অর্থ কেবল মাত্র অত্র চিহ্নিত সমস্যায় থাকা মানুষ, প্রধানত নারীদের সহায়তা করা এবং সমাজের দরিদ্র জনসাধানের সেবার জন্য ব্যয় করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতি গঠনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবে। এছাড়াও আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি বিভিন্ন রকম উন্নয়নমূলক কাজে অত্র প্রতিষ্ঠান কিংবা সংগঠন ও সংগঠনের সকল সদস্যগণ শারীরিক ও মানসিক সহায়তায় প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।